বৈষম্যবিরোধীছাত্রআন্দোলন রাষ্ট্রসংস্কার সামাজিকব্যবসা কোটাসংস্কার

কোটা সংস্কার থেকে রাষ্ট্র সংস্কার I ৯ দফা থেকে এক দফা I একদিকে জনবিচ্ছিন্নতা, অন্যদিকে জনসম্পৃক্ততা I বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের পর সবচেয়ে বৃহৎ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি সফল আন্দোলন I ছাত্র সমাজের নেতৃত্বে, স্বাধীনতার পরে অন্য কোন অরাজনৈতিক আন্দোলন ধর্ম, বর্ণ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, শিশু থেকে বৃদ্ধ, সমাজের উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত, দিনমজুর থেকে রিকশাচালক, বুদ্ধিজীবী থেকে সাংস্কৃতিক কর্মী, – সর্ব শ্রেণীর এত বেশি সংখ্যক মানুষকে একত্রিত এবং সমর্থন অর্জন করতে পারেনি I আন্দোলনটি ছাত্রদের সরকারি চাকরি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক সংরক্ষণ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কিংবা শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পালাবদলের জন্য নয়, বরং সমাজের সকল ধরনের বৈষম্য, বিভাজন, অব্যবস্থাপনা, বিচারহীনতা, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ সহ রাষ্ট্রীয় নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে “রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার” আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল I একটি সুস্পষ্ট এবং পূর্বনির্ধারিত আদর্শিক লক্ষ্যের কারণেই তরুণ সমাজকে পুলিশী এবং দলীয় নির্যাতন করেও লক্ষ্যচ্যুত করা বা পিছু হটাতে পারেনি বরং ভয়-ভীতি, জেল, জুলুম, গুলি, কারফিউ উপেক্ষা করে প্রতিদিন জ্যামিতিক হারে আন্দোলনকারী সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে I এক একটি তাজা প্রাণের মৃত্যু আন্দোলনকে আরো বেগবান করেছে I

অবশেষে, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ – সংসদ বিলুপ্তি – অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন – ছাত্র জনতার বিজয় I তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে নতুন নয় I তবে এবারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে আগের সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মৌলিক পার্থক্য হচ্ছে – উদ্দেশ্যগত এবং কর্ম পরিধিতে I পূর্বতন সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির আন্দোলন সমূহ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে, রাজনৈতিক দলের অনুসারীদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছিল, যার মূল এজেন্ডা ছিল নির্বাচন কেন্দ্রিক দৈনন্দিন কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল I এবারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আবির্ভাব ছাত্র সমাজের নেতৃত্বে, তাদের ইচ্ছায় এবং তাদের অংশগ্রহণে I বাংলাদেশের রাজনৈতিক কিংবা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইতিহাসে ছাত্রদের মধ্য থেকে এবং এত কম বয়সী উপদেষ্টা অন্তর্ভুক্তি এবারেই প্রথম I সরকারের কর্ম পরিধি শুধু সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করে রাজনৈতিক দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর নয় বরং অপরিহার্যভাবে এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ও ব্যবস্থাপনার সংস্কার I

প্রশংসনীয় জিডিপি প্রবৃদ্ধি, ঈর্ষণীয় মাথাপিছু আয়, উন্নয়নের রোল মডেল – শব্দগুলোর সাথে আমরা সবাই পরিচিত থাকলেও কর্ম-সংস্থান সৃষ্টির সাথে কর্ম-প্রত্যাশী মানুষের সংখ্যার ব্যাপক গরমিল ভবিষ্যৎ কর্ম- প্রত্যাশী ছাত্রছাত্রীদের প্রধান অবলম্বন হয়ে ওঠে সরকারি চাকরি I বৈষম্যমূলক সংরক্ষণ ব্যবস্থা, প্রশ্নপত্র ফাঁস, দলীয়করণ, দুর্নীতি সেই সীমিত সুযোগটাকেও আরো সংকুচিত করে ফেলে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ছাত্র- জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে I আমাদের ভেবে দেখা দরকার, সরকারি চাকুরী এত লোভনীয় কেন ? কর্মসংস্থানের স্বল্পতা ? নৈতিক অবক্ষয় ? নাকি দুটোই ? ভেবে দেখা দরকার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে কেন একজন মেধাবী ব্যক্তি কাস্টমস কিংবা পুলিশ ক্যাডার বেছে নিচ্ছে I কোন প্রেক্ষিতে, কোন বিবেচনায়

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, বিচারপতি, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, চাকরিজীবী,ব্যবসায়ী আত্মমর্যাদা ভুলে দলবাজিতে আত্মসমর্পণ করে ? ভয়ে ? নাকি ব্যক্তি স্বার্থের লোভ থেকে ? আজকে যারা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীতে কর্মরত তারাও একদিন ছাত্র ছিলেন, তাদের পরিবারেও ছাত্র আছে কিংবা তার নিজের সন্তানও হয়তো একজন ছাত্র I তাহলে তাদের কিছু সদস্য ছাত্র হত্যার মতো নিষ্ঠুর, নির্মম, নৃশংস, লোমহর্ষক, ঘৃণিত, অপরাধী কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে গেল কিভাবে ? মানুষের সাথে পুলিশের দূরত্ব তৈরি হলো কোন প্রেক্ষাপটে? বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ কিভাবে সরকার দলীয় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হলো ?

সামাজিক এবং পারিবারিক অবক্ষয় অনেক ক্ষেত্রে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিটি তার অনৈতিক এবং অবৈধ আয়ের বিষয়ে লজ্জাবোধ করেন না I বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এটা প্রমাণ করেছে যে নতুন প্রজন্ম বৈষম্যহীন, ন্যায় এবং সাম্য ভিত্তিক সমাজ গঠনে মানসিকভাবে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত I

তাদের পরিবারের কেউ দুর্নীতির টাকায় তাকে প্রাচুর্য এনে দিচ্ছে, হোক সে তার বাবা কিংবা ভাই ! সে প্রতিবাদ করবে I সে জানতে চাইবে, তার পরিবারের সদস্য কিংবা আত্মীয়, প্রতিবেশী অথবা তার সহপাঠী, বা বন্ধুর বাবা-মা দুর্নীতির সাথে যুক্ত কিনা I আর সেটা জানানোর অন্যতম সহজ এবং অতি সাধারণ পন্থা হলো, তাদের বৈধ আয়ের উৎস সম্পর্কে অবহিত করা I বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায়ে হতে পারে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি বেতন কাঠামো এবং হার টাঙিয়ে দেওয়া যেন সন্তান হিসেবে সে নিজেই তাদের পরিবারের জীবনমান এবং তার বাবার আয়ের উৎসের ফারাক সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে এবং প্রয়োজনে আয়ের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইতে পারে I পারিবারিক এবং সামাজিক আন্দোলন ছাড়া তথাকথিত দুর্নীতি দমন কমিশন দিয়ে দুর্নীতি দমন কতটা সফল তা বলার অপেক্ষা রাখে না I

মানবাধিকার এবং গণতন্ত্র পরস্পরের পরিপূরক I মানবাধিকার ছাড়া গণতন্ত্র যেমন অলীক চিন্তা, তেমনি গণতন্ত্র ছাড়া মানবাধিকারের সুরক্ষাও অকল্পনীয় I একটা দেশ কতটা গণতান্ত্রিক তার মাপকাঠি হচ্ছে সেই দেশের মানুষ কতটা মানবাধিকার সম্পর্কে জ্ঞাত I আমাদের দেশে মানবাধিকারের মত অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক কারিকুলামে অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে আমার জানা নাই I অর্থাৎ কোন কোন অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে গণ্য করা হয়, অধিকার লাভের সাথে দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো কি কি, মানবাধিকার রক্ষার সাথে সাংবিধানিক এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতাই বা কি ? এসব বিষয়ে ছাত্রছাত্রী, আইন শৃঙ্খলা

রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, রাজনীতিবিদ প্রত্যেকেরই পরিপূর্ণ ধারণা থাকা অত্যাবশ্যক, অন্যথায় গণতন্ত্রের অপব্যাখ্যা, অপচর্যা অবধারিত I একজন মেধাবী ছাত্রও মানবাধিকার সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ না করেই কর্মস্থলে যোগদান করে I I “না জানার কারণে – না মানার” অজুহাত একটা কারণ হলেও হতে পারে I মানবাধিকার রক্ষার সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে, ছাত্র-ছাত্রীদেরকে মানবাধিকার সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা দেওয়া I এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা সম্বলিত ৩০ টি ধারা পাঠ্য পুস্তকের অংশ করা যেতে পারে I উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় অংশের ধারা ২৭ থেকে ৪৪ পর্যন্ত মোট ১৮ টি মৌলিক অধিকারের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে, যার ১৭ টিই জাতিসংঘের মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা থেকে I

বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ৬৪% (১৬-৬৪ বছর বয়সের মধ্যে) কর্মক্ষম I প্রতিবছর প্রায় ১৮ লক্ষ মানুষ চাকরির বাজারে প্রবেশ করছে, যাদের মধ্যে একটি বড় অংশ উচ্চ শিক্ষিত I

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, আমাদের এই বিপুল জনসংখ্যাকে, জনশক্তিতে পরিণত করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি I প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকায়, রাজনীতি আজ পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে I তরুণদের বেকারত্বের সুযোগে, আজকের রাজনীতি তাদেরকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করেছে I দুর্নীতি, রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা, দেশপ্রেমের অভাবের কারণে আমাদের প্রায় একশোটি অর্থনৈতিক অঞ্চল থাকলেও আকাঙ্খিত বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়নি, উপরন্তু দেশীয় বিনিয়োগও আজ নিম্নমুখী I বিদেশি বিনিয়োগ না আসা এবং দেশীয় বিনিয়োগ কমে যাওয়ার কারণ সময় চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে I

ইজ অফ ডুইং বিজনেস ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ১৯০ টি দেশের মধ্যে ১৬৪ তম, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এর জরিপে দুর্নীতিগ্রস্ত ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৪৭ তম, বাংলাদেশের পাসপোর্ট পৃথিবীর নবম দুর্বলতম পাসপোর্ট I পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি বছর মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে নৌকা যোগে বিপুলসংখ্যক মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করে I সেই ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ পৃথিবীতে দ্বিতীয় I আমাদের অদক্ষ শ্রমিক সবকিছু বিক্রি করে বিদেশে গিয়ে প্রাণান্ত কষ্ট করে দেশের জন্য বহুল কাঙ্খিত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠায়, অথচ তারাই বিদেশে যাবার সময় দেশীয় দালালদের হাতে প্রতারিত হয় এবং যাওয়ার পরে বিদেশি নিয়োগ কর্তাদের দ্বারা নির্যাতিত ও বৈষম্যের শিকার হন I দুর্ভাগ্যজনক, সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে তারা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পান না I অথচ সবসরকারের, সবসমযয়ে রাষ্ট্রের সুবিধাভোগী একশ্রেণীর দুর্নীতিগ্রস্ত আমলা, অসাধু ব্যবসায়ী এদেশ থেকে সেই কষ্টার্জিত মুদ্রা বিদেশে পাচার করে I গত ১৫ বছরের অর্থনৈতিক খাতের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনার উপর একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ, আজ গণদাবিতে পরিণত হয়েছে I

সাংবিধানিক এবং মৌলিক অধিকার গুলোকে আইনি মোড়কে রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে লংঘন করার দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি একটি মাত্র নির্বাচনের মাধ্যমে সঠিক এবং প্রত্যাশিত পথে নিয়ে আসা সম্ভব নয় I শুধুমাত্র তড়িঘড়ি করে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিজিত দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্যে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কর্ম পরিধি সীমিত রাখাটা একদিকে যেমন আন্দোলনের উদ্দেশ্যের সাথে সংঘর্ষিক, শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল, অন্যদিকে যে লক্ষ কোটি কিশোর, তরুণ ছাত্র সমাজ “রাষ্ট্র সংস্কারের” আদর্শিক সংগ্রামে রাজপথে অবিচল থেকে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে তাদের স্বপ্নকে গুঁড়িয়ে দেওয়া I রাষ্ট্র সংস্কারের মত অত্যাবশ্যকীয় কিন্তু জটিল কাজটি সম্পাদনের জন্য “দলের চেয়ে দেশ বড়” এই আদর্শকে ধারণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকাল নির্ধারণে তরুণ ছাত্র সমাজকে মতামত দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া যেতে পারে I এ লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অনলাইন জরিপের ব্যবস্থা করতে পারে I

রাষ্ট্রীয় কাজের পরিধিকে শিক্ষা, চিকিৎসা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা- এসবের মধ্যে সীমিত রেখে বেসরকারি কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ এবং পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে I অন্যদিকে শিক্ষিত তরুণদেরকেও শুধুমাত্র চাকরির পিছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে I

এক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মোহাম্মদ ইউনূসের “সামাজিক ব্যবসার” প্রমাণিত এবং পরীক্ষিত মডেল তরুণরা অনুসরণ করতে পারে I সামাজিক ব্যবসা বিষয়ে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সেমিনারে অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি প্রচলিত ব্যবসায়িক ধারণার পাশাপাশি সামাজিক ব্যবসার সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং কর্মসংস্থানের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে I সে লক্ষ্যে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই বিষয়গুলোকে মাথায় রেখে রাষ্ট্র সংস্কারের অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করে আগাতে হবে I

সর্বোপরি, এই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, যারা পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, যারা আহত হয়েছেন তাদের সঠিক একটি তালিকা প্রকাশ করে তাদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে I মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরে দ্বিতীয়বার মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নকে বাস্তবে “বৈষম্যহীন বাংলাদেশ” গড়ার সুযোগ পেয়েছে I আমি বিশ্বাস করি আগামীতে বাংলাদেশে তরুণদের নেতৃত্বে বেকারত্ব মুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ এবং অর্থব্যবস্থা, সুস্থ ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চার মধ্য দিয়ে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত হবে I

মোহাম্মদ হাসান, পিএইচডি

ইউনাইটেড ফর হিউম্যান রাইটস,

ঢাকা চ্যাপ্টার, ঢাকা

আগস্ট ১৪, ২০২৪